দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামে দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় নিজেদের বসতঘরের ভেতরেই আব্দুল করিম মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে দাফন করেছে তার পরিবার। ঘরের টিনের বেড়া খুলে সেখানে তাকে দাফন করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দেশ টিভিকে জানান, বসতঘরের ভেতরে মরদেহ দাফনের বিষয়টি জানতে পেরে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার ধর্মীয় রীতি মেনে মরদেহটি ঘরের ভিটা থেকে সরিয়ে অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
আব্দুল করিম মিয়া শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে করিম মিয়া মারা যান। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিজেদের বসতঘরের ভেতরেই তাকে দাফন করা হয়।
করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ফুফুর কাছ থেকে বাবার বসতঘরসহ তিন শতাংশ জমি কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু দাফনের জন্য পরিবারের অন্য কোনো জায়গাজমি না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই ঘরেই বাবাকে দাফন করতে হয়েছে।
কোতুলী বেগম বলেন, ‘আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। আরেক বোন স্বামীর বাড়িতে থাকে। বাবাকে দাফন করার মতো কোনো জায়গাজমি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কবর দিতে হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাবার মরদেহ অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’
সমাজকর্মী হুমায়ুন কবির ইসলাম বলেন, প্রায় প্রতিটি এলাকায় সামাজিক কবরস্থান রয়েছে, যেখানে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা থাকে। আব্দুল করিম মিয়ার মরদেহ কেন সামাজিক কবরস্থানে নেওয়া হলো না, সে বিষয়ে স্থানীয়রাও দায় এড়াতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন। ধর্মীয় রীতি মেনে ঘরের ভিটা থেকে মরদেহ সরিয়ে অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থা করা হলে তা সামাজিকভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ হবে।
যে আই